চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) জাপানের অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। এতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে দেশটির রফতানি খাত। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সংকোচনের পর জাপানি রফতানি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খবর আনাদোলু।
জাপানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, বাজারে পূর্বাভাস ছিল জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি বাড়বে দশমিক ১ শতাংশ। ওই পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
অন্যদিকে সংশোধনের পর প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে দশমিক ১ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুসারে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট অবদান রেখেছে রফতানি খাত, যা আগের প্রান্তিকে দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট সংকুচিত হয়েছিল।
এছাড়া গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় এপ্রিল-জুনে জাপানের অর্থনীতি ১ দশমিক ২ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে, যা জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের ১ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় ধীর।
গত এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন উচ্চ শুল্কের কারণে চাপের মুখে ছিল জাপানের অর্থনীতি। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে গত ২৩ জুলাই বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছতে সক্ষম হয় টোকিও। এর আগেই দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার তুলনায় বেড়েছে অর্থনীতি।
বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন জাপানি পণ্যের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। এছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। এতে ৫৫ হাজার কোটি ডলারের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আমদানীকৃত গাড়ির ওপর এপ্রিলে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সংকটে পড়ে জাপানি গাড়ি নির্মাতারা। কারণ ২০২৪ সালে জাপানের মোট গাড়ি রফতানির ২৮ দশমিক ৩ শতাংশের গন্তব্য ছিল মার্কিন বাজার।
এদিকে জুনে যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে, মে মাসে কমেছিল ১১ শতাংশ। এর মধ্যে জুনে যুক্তরাষ্ট্রে জাপানি গাড়ি রফতানি ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা মে মাসের ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাসের তুলনায় বেশি।